ডেলিভারির সময়ে যুদ্ধজাহাজ চালিয়ে আনা হলেও সাবমেরিন কেন চালিয়ে আনা হয় না?
ছবিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর Ming Class সাবমেরিনের ডেলিভারির সময়কার যেখানে কার্গো জাহাজে করে সাবমেরিন দুটিকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যুদ্ধজাহাজ চালিয়ে নিয়ে আসা হলেও সাবমেরিন কেন চালিয়ে নিয়ে আসা হয় না? উত্তরটা বেশ সিম্পলভাবেই বুঝানো যাক, যুদ্ধজাহাজের রেঞ্জ ও এন্ডিউরেন্স সাবমেরিনের থেকে বেশি।যদি চীন থেকে যুদ্ধজাহাজ কেনা হয় তাহলে সেটি প্রায় ৭০০০-৮০০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে দেশে আসে এবং বেশ কয়েকটি দেশের আন্তর্জাতিক জলসীমা পার করে আসতে হয়।আর এসব দেশের জলসীমা ব্যবহার করার আগে সেসব দেশের নৌবাহিনীর অনুমতি লাগে আর সেসব ক্ষেত্রে অনুমতিও দেয়া হয়।
তবে সাবমেরিনের ক্ষেত্রে ব্যপারটি আলাদা,সাবমেরিন একটি স্ট্র্যাটেজিক ওয়েপন।বিশাল সমুদ্রে সাবমেরিনের এন্ডিউরেন্স ও রেঞ্জ যুদ্ধজাহাজের থেকে কম (নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের ব্যাপার আলাদা)।আর সমুদ্র দিয়ে আসার সময়ে সাবমার্জড অবস্থায় আসলে কোন দেশই তাদের সমুদ্রসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিবে না কখনোই।আর সাবমার্জড অবস্থায় কমিউনিকেশনও করা সম্ভব না কারন সাবমেরিনের কমিউনিকেশন সিস্টেম আলাদা।এছাড়া সাবমেরিন যুদ্ধকালীন সময়ে যুদ্ধ ছাড়াও অন্য/শত্রু দেশের জলসীমায় গোয়েন্দাগিরি ও নজরদারি করার কাজেও ব্যবহার করা হয়।আর যুদ্ধজাহাজের আর্মামেন্ট/অস্ত্র বাইরে থেকে দেখা গেলেও সাবমেরিন অপারেটর ছাড়া আর কেউই জানেনা যে সাবমেরিনে কি কি অস্ত্র আছে।সেটাও যেকোন দেশের জন্য একটি থ্রেট।আর সাবমেরিনে যদি কোন দূর্ঘটনা ঘটে তাহলে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলে কোনদিনই সেই সাবমেরিন খুঁজে পাওয়া যাবে না।
এজন্য যুদ্ধজাহাজ চালিয়ে নিয়ে আসা হলেও সাবমেরিন কখনো চালিয়ে নিয়ে আসা হয় না।
(তবে সম্প্রতি পাকিস্তান তাদের Hangor Class Submarine চালিয়ে এনে নিজেদের দেশে নোঙ্গর করে যা exceptional case)
© Unknown
No comments:
Post a Comment