মাত্র ২০ ডলারের ঘড়ি কীভাবে রোলেক্স'কেও ছড়িয়ে গেলো?

আমরা সাধারণত ভাবি, কোনো একটা প্রোডাক্ট বা ব্যবসাকে সফল করতে হলে তাতে দুনিয়ার সব অত্যাধুনিক ফিচার যোগ করতে হবে। ডিজাইন হতে হবে চোখধাঁধানো, আর দাম হতে হবে এমন যেন তা একটা স্ট্যাটাস সিম্বল হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু যদি বলি, পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে সফল, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ঘড়িটার দাম মাত্র বিশ ডলার? হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। মাত্র বিশ ডলারের একটা সাধারণ প্লাস্টিকের ঘড়ি, যা ওজনে তিনটে কয়েনের সমান, কিন্তু বিক্রি আর জনপ্রিয়তার দিক থেকে সব নামিদামি লাক্সারি ব্র্যান্ডকে পেছনে ফেলেছে। 

আমরা কথা বলছি ক্যাসিও এফ-৯১ডব্লিউ (Casio FW) নিয়ে। 

এটি শুধু একটা সস্তা ডিজিটাল ঘড়ি নয় গত পঞ্চাশ বছরের প্রোডাক্ট ডিজাইনের সবচেয়ে নিখুঁত উদাহরণ। যারা নতুন ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন বা নতুন পণ্য বাজারে আনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য এই বিশ ডলারের ঘড়ির পেছনের গল্পটা একটা মাস্টারক্লাস।

গল্পটা বুঝতে একটু অতীতে ফিরে যাই। ষাট বা সত্তরের দশকের দিকে ঘড়ি বলতে মানুষ বুঝত স্প্রিং আর ছোট ছোট গিয়ারে ঠাসা এমন এক মেকানিক্যাল যন্ত্র, যা ছিল অত্যন্ত দামি, ভঙ্গুর এবং বর্তমান মানদণ্ডে বেশ ভুল সময় দিত। এরপর ১৯৬৯ সালে সেকো যখন প্রথম ব্যাটারিচালিত কোয়ার্টজ ঘড়ি বাজারে আনল, তখন সুইস ঘড়ি নির্মাতারা একে পাত্তাই দেয়নি। এই একটা ভুল হিসাব পুরো সুইস ঘড়ি শিল্পকে প্রায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল। ঠিক এই সুযোগেই প্রবেশ করে ক্যাসিও। 

মজার ব্যাপার হলো, ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্যাসিও কিন্তু কোনো ঘড়ির কোম্পানি ছিল না, তারা মূলত ক্যালকুলেটর বানাত। তারা ছোট আকারের ডিজিটাল ডিসপ্লে তৈরিতে বেশ দক্ষ ছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল যে, ঘড়ি যদি আর মেকানিক্যাল যন্ত্র না থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসে পরিণত হয়, তবে প্রথাগত ঘড়ি নির্মাতাদের চেয়ে তাদের সুবিধা অনেক বেশি।

প্রথমদিকে ক্যাসিও-ও কিন্তু অন্যান্যদের মতো একই ভুল করেছিল।

তারা ঘড়ির ভেতরে ক্যালকুলেটর, গেম, থার্মোমিটার, এমনকি ফোন নম্বর সেভ করে রাখার ফিচার ঢোকাতে শুরু করেছিল। তারা ঘড়িকে একটা বিলাসবহুল কনজ্যুমার ইলেকট্রনিক্স হিসেবেই দেখছিল। 

কিন্তু আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে এসে তারা একটা অদ্ভুত ব্যাপার খেয়াল করল। বাজারে যখন অসংখ্য ফিচারে ঠাসা জটিল সব ঘড়ির ছড়াছড়ি, ঠিক তখনই ক্যাসিওর একদম সাধারণ মডেলগুলো সবচেয়ে বেশি বিক্রি হতে শুরু করল। মানুষ আসলে এমন কোনো ঘড়ি চাইছিল না, যেটা দিয়ে কফি বানানো ছাড়া বাকি সব করা যায়। তারা শুধু এমন একটা যন্ত্র চাইছিল, যা নিখুঁতভাবে সময় জানাবে, সহজে নষ্ট হবে না, ঘন ঘন ব্যাটারি বদলাতে হবে না এবং যার দাম হবে একেবারে হাতের নাগালে।

এই অসাধারণ উপলব্ধি থেকেই ১৯৮৯ সালে বিশ্ববাজারে আসে ক্যাসিও এফ-৯১ডব্লিউ। কাগজে-কলমে এই ঘড়িতে যুগান্তকারী কিছুই ছিল না। একটা স্টপওয়াচ, একটা অ্যালার্ম, একটা ক্যালেন্ডার আর একটা ব্যাকলাইট, ব্যাস, এইটুকুই। কোনো ক্যালকুলেটর নেই, কোনো গেম নেই। কিন্তু যেটুকু আছে, তা সবচেয়ে নিখুঁতভাবে তৈরি। ঘড়িটি মাসে মাত্র ৩০ সেকেন্ড এদিক-ওদিক হতো আর এর একটা ব্যাটারি অনায়াসে সাত বছর চলে যেত। এর ডিজাইন ছিল এতটাই সাধারণ আর ছিমছাম যে, এটা কারো হাতে থাকলে আলাদা করে চোখেই পড়ত না। 

ডিজাইনের দুনিয়ায় একটা খুব বিখ্যাত কথা আছে। 

কোনো কিছুর ডিজাইন তখন সম্পূর্ণ হয় না যখন তাতে আর কিছু যোগ করার বাকি থাকে না বরং তখন সম্পূর্ণ হয়, যখন সেখান থেকে আর কোনো কিছু বাদ দেওয়ার উপায় থাকে না। ক্যাসিও ঠিক এই কাজটাই করেছিল।

খুব কম দামে এত দুর্দান্ত একটা জিনিস বাজারে আসায় যা হওয়ার তাই হলো। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে ক্যাসিও বছরে লাখ লাখ পিস তৈরি করতে শুরু করল। এটি এতটাই সহজলভ্য আর নির্ভরযোগ্য ছিল যে, একসময় আল-kয়েদার মতো গোষ্ঠীগুলোও তাদের টাইমিং ডিভাইস হিসেবে এই ঘড়ি ব্যবহার করতে শুরু করে। 

তবে এই বিতর্কিত অধ্যায়টি একটা বড় সত্যকে সামনে নিয়ে আসে, পণ্য হিসেবে এটি কতটা সর্বজনীন হয়ে উঠেছিল। এটি শুধুই একটা ঘড়ি ছিল, যার কোনো নির্দিষ্ট নিজস্বতা বা অহংকার ছিল না, ছিল কেবল শতভাগ উপযোগিতা।

আজকের দিনের স্মার্টওয়াচগুলোর দিকে একবার তাকান। 

এগুলো তিন বছরের মাথাতেই পুরনো হয়ে যায়, নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট দিতে হয় এবং প্রতিদিন রাতে চার্জে বসাতে হয়। অথচ ১৯৮৯ সালে তৈরি একটা ক্যাসিও ঘড়ি আর গত সপ্তাহে তৈরি হওয়া একটা ক্যাসিও ঘড়ির মধ্যে কার্যকারিতায় কোনো পার্থক্য নেই। 

বর্তমান বিশ্বে যেখানে কোম্পানিগুলো ইচ্ছে করেই তাদের পণ্য এমনভাবে বানায় যেন কয়েক বছর পর মানুষ নতুন মডেল কিনতে বাধ্য হয়, সেখানে ক্যাসিও উল্টো পথে হেঁটেছে। তারা প্রমাণ করেছে যে, কোনো পণ্যকে সফল হতে হলে তাতে দামি ম্যাটেরিয়াল বা হাজারটা ফিচারের দরকার নেই। 

ক্যাসিওর এই ছোট্ট ঘড়িটি আজ কেবল সময় দেখার যন্ত্র নয়, এটি এক ধরনের বস্তুবাদ-বিরোধী আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য এর চেয়ে বড় শিক্ষা আর কী হতে পারে! আপনি যদি মানুষের কোনো একটা বাস্তব সমস্যার একদম সহজ, টেকসই এবং সাশ্রয়ী সমাধান বের করতে পারেন, তবে আপনার পণ্যের প্রচারের জন্য কোনো কৃত্রিম হাইপ তোলার দরকার হবে না। পণ্যের গুণগত মান আর মানুষের মুখের কথাই আপনার ব্র্যান্ডকে দশকের পর দশক ধরে বাঁচিয়ে রাখবে।

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে গড়লো ৮টি অবিশ্বাস্য ইতিহাস!

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হলো, এবং এর সাথে যুক্ত হলো বেশ কিছু ঐতিহাসিক রেকর্ড। উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য—
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হলো, এবং এর সাথে যুক্ত হলো বেশ কিছু ঐতিহাসিক রেকর্ড। উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য—

১. আর্জেন্টিনা নিয়মিত সময়ের ৯০ মিনিটে একটিও শট নিতে পারেনি। ১৯৬৬ সাল থেকে রক্ষিত রেকর্ড অনুযায়ী বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এমন ঘটনা এটিই প্রথম। (সূত্র: The Analyst)

২. গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এই ম্যাচে ১১টি সেভ করেন, যা ১৯৬৬ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো গোলরক্ষকের সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড। (সূত্র: The Analyst)

৩. লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ। বিশ্বকাপ ফাইনালে এ পর্যন্ত মোট ছয়জন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছেন, যাদের অর্ধেকই আর্জেন্টাইন খেলোয়াড় (১৯৯০ সালে মনজন ও দেজোত্তির পর)। (সূত্র: The Analyst)

৪. স্পেন গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ড্র করেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতেছে। এমন কীর্তি এর আগে একবারই দেখা গিয়েছিল, তাও আর্জেন্টিনার মাধ্যমে। এবার সেই আর্জেন্টিনাকে হারিয়েই স্পেন এই তালিকায় যুক্ত হলো। (সূত্র: CBS News)

৫. গোল্ডেন বুট প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যান কিলিয়ান এমবাপ্পে, এবং তিনি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা (২২ গোল), যেখানে মেসির গোলসংখ্যা ২১। (সূত্র: The Analyst)

৬. দুই দলের ঐতিহাসিক হেড-টু-হেড রেকর্ড ছিল সম্পূর্ণ সমান (৬-২-৬), তবে সাম্প্রতিক ছয় সাক্ষাতের চারটিতেই জিতেছিল স্পেন। (সূত্র: Fox Sports)

৭. স্পেন এই জয়ের মাধ্যমে ইউরোপের বাইরে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ জেতা দ্বিতীয় ইউরোপীয় দেশ হলো, এবং পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগের বিশ্বকাপ একসাথে ধরে রাখার প্রথম দেশ হওয়ার পথে রয়েছে। (সূত্র: CBS News)

৮. পাউ কুবার্সি এই ম্যাচে ১২১টি পাস সম্পূর্ণ করেন। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো খেলোয়াড়ের ১০০টির বেশি পাস সম্পূর্ণ করার ঘটনা মাত্র তৃতীয়বার ঘটলো (আগে ছিলেন ১৯৯৪ সালে ব্রাজিলের দুঙ্গা)। (সূত্র: The Analyst)

#WorldCupFinal2026 #SpainChampions #Messi #FIFAWorldCup

Zara Business Strategy: কীভাবে বিজ্ঞাপন ছাড়াই বিশ্বসেরা ব্র্যান্ড হলো জারা।

কখনো কি গভীরভাবে ভেবে দেখেছেন, তুমুল প্রতিযোগিতার বাজারেও পৃথিবীর অন্যতম বড় একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ড কোনো বিজ্ঞাপন ছাড়াই কীভাবে বিলিয়ন ডলারের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে? আমরা কথা বলছি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা ব্র্যান্ড জারা-এর কথা। 

সালটা ছিল ১৯৭৫। স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাদামাটা ছোট্ট একটি শহরে এক সাধারণ মানুষ কাপড়ের দোকান খুললেন। মানুষটির কোনো নামীদামি বিজনেস ডিগ্রি ছিল না। পেছনে টাকা ঢালার মতো কোনো ইনভেস্টর ছিল না, এমনকি ইন্ডাস্ট্রিতে তার কোনো চেনাজানাও ছিল না। তার নাম আমানসিও ওর্তেগা এবং সেই ছোট্ট দোকানটির নামই জারা। 

আজকের দিনে জারা একটি ১০০ বিলিয়ন ডলারের অবিশ্বাস্য সাম্রাজ্য। এই আকাশচুম্বী সাফল্যের পেছনে কোনো জাদুর কাঠি ছিল না। ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বাস্তবমুখী একটি ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ, যা তখনকার ফ্যাশন দুনিয়ার সমস্ত বাঁধাধরা নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছিল।

ওর্তেগা যখন ব্যবসা শুরু করেন, তখন ফ্যাশন দুনিয়ার কাজের ধরন ছিল অন্যরকম। বড় ডিজাইনাররা ঠিক করতেন সাধারণ মানুষ আগামীতে কী পরবে। তারা নিজেদের স্টুডিওতে বসে ডিজাইন তৈরি করে সেটা বাস্তবে রূপ দিয়ে দোকানে আনতে অন্তত বারো থেকে আঠারো মাস সময় নিতেন। এরপর সেই কাপড়ের প্রচারণার জন্য কোটি কোটি টাকা ঢালতেন বিজ্ঞাপনের পেছনে। তাদের লক্ষ্য ছিল ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে বোঝানো যে, এটাই এখনকার লেটেস্ট ট্রেন্ড এবং তোমাদের এটাই কেনা উচিত। 

গুচি, প্রাডা থেকে শুরু করে লুই ভিতোঁ, সবাই একই নিয়মে ব্যবসা করত। কিন্তু ওর্তেগা পুরো সিস্টেমটাকে খুব কাছ থেকে দেখলেন। তার মনে হলো, এই সিস্টেমটার মধ্যে একটা মস্ত বড় গলদ আছে। তিনি নিজেকে এবং চারপাশের পরিবেশকে একটা যুগান্তকারী প্রশ্ন করে বসলেন। তিনি ভাবলেন, আমরা কেন মানুষকে জোর করে বলে দেবো তারা কী পরবে? এর চেয়ে বরং কাস্টমাররা আসলে ঠিক এই মুহূর্তে কী পরতে চায়, সেটা জেনে তাদের ঠিক সেই জিনিসটাই দিলে কেমন হয়? 

এই একটা মাত্র প্রশ্নই আজকের বিশ্বের সবচেয়ে দামি কোম্পানিগুলোর একটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।

এই চিন্তাধারা থেকে ওর্তেগা মূলত এমন তিনটি কাজ করলেন, যা ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির নিয়মগুলোকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল। তার প্রথম চমকটি ছিল নিখুঁত হওয়ার চেয়ে কাজের গতির ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া। যেখানে অন্যান্য ট্র্যাডিশনাল ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো একটি কাপড়ের ডিজাইন থেকে শুরু করে সেটা শোরুমে পৌঁছাতে বারো থেকে আঠারো মাস সময় নিত, সেখানে জারা পুরো কাজটা করত মাত্র পনেরো দিনে! 

একটু চিন্তা করে দেখুন বিষয়টা কতটা অবিশ্বাস্য। 

তারা হয়তো সোমবারে রাস্তায় কোনো নতুন ট্রেন্ড খেয়াল করল। সাথে সাথে মঙ্গলবারে সেটার ডিজাইন করে ফেলল। পরের সপ্তাহেই সেটা প্রডাকশনে চলে গেল এবং তার পরের সপ্তাহের মধ্যেই সেটা জারার শোরুমগুলোতে বিক্রির জন্য চলে এল। 

ব্যবসার ভাষায় এটাকে বলে প্রতিযোগীর সাইকেলে ঢুকে পড়া। যখন গুচির মতো ব্র্যান্ডগুলো তাদের আগামী বছরের কালেকশন নিয়ে মিটিংয়ে ব্যস্ত, জারা তখন মানুষ ঠিক এই মুহূর্তে যা চাইছে, ঠিক সেটাই তৈরি করে মুনাফা লুটে নিচ্ছে।

দ্বিতীয় যে কাজটিতে ওর্তেগা জোর দিলেন, সেটি হলো সহজলভ্যতার চেয়ে দুষ্প্রাপ্যতার ওপর ফোকাস করা। জারা যেহেতু খুব দ্রুত প্রডাকশন সাইকেল শেষ করত, তাই তারা সবকিছু খুব অল্প পরিমাণে বা ছোট ছোট ব্যাচে তৈরি করতে শুরু করল। এর মানে হলো, নির্দিষ্ট ডিজাইনের কাপড় একবার বিক্রি হয়ে গেলে তারা সাধারণত আর সেটা নতুন করে স্টকে আনে না। 

এই সাধারণ বিষয়টা কাস্টমারদের মনে অদ্ভুত এক তাগিদ বা ইমার্জেন্সি তৈরি করল। মানুষ খুব সহজেই বুঝতে পারল, আজ যে সুন্দর ড্রেসটা তারা জারার শো-রুমে দেখছে, কাল সেটা কিনতে এলে আর নাও থাকতে পারে। 

ফলে তারা বাধ্য হয়ে বারবার দোকানে ফিরে আসতে শুরু করল। অনেকেই সপ্তাহে দুবার করে জারার আউটলেটে ঢুঁ মারতে শুরু করল শুধু এটা নিশ্চিত করতে যে, তাদের পছন্দের কাপড়টা যেন কোনোভাবেই হাতছাড়া না হয়ে যায়। আর ঠিক এই কারণেই জারার কোনো বিজ্ঞাপনের দরকার পড়ে না। তাদের এই দুষ্প্রাপ্যতা বা স্কার্সিটিই হলো তাদের সবচেয়ে কার্যকর মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি।

জারার তৃতীয় কৌশলটি হলো, তারা নিজেদের কথা জোড় গলায় প্রচার করে না, বরং কাস্টমারদের কথা মন দিয়ে শোনে। প্রতিদিন জারার প্রতিটি স্টোর ম্যানেজার স্পেনের হেডকোয়ার্টারে রিপোর্ট পাঠান। এই রিপোর্ট শুধু কত টাকার বিক্রি হলো সেটার ওপর থাকে না। তারা মূলত জানায়, কাস্টমাররা আজ সারা দিন কী খুঁজছিল, ট্রায়াল রুমে কোন কাপড়গুলো পরে দেখছে, আর কোনগুলো নেড়েচেড়ে পছন্দ না হওয়ায় আবার র‍্যাকে রেখে দিচ্ছে। 

এই অমূল্য তথ্যগুলো সরাসরি চলে যায় জারার ডিজাইন টিমের কাছে। রিয়েল-টাইম ডেটা ব্যবহার করে তারা খুব সহজেই বোঝে বাজারে এখন ঠিক কিসের চাহিদা বেশি। এরপর তারা সেই অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়। অর্থাৎ, তারা কাস্টমারদের ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেয় না, বরং কাস্টমাররা যা চায়, সেটাই বানিয়ে দেয়।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, জারার এই গল্পটা আপনার বা আমার জন্য কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? আপনি হয়তো একটি টেক কোম্পানি চালাচ্ছেন, অথবা আপনার হয়তো একটি রেস্টুরেন্ট আছে, কিংবা আপনি কনসাল্টিং ফার্ম গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন। বর্তমান আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে আপনাকে এমন কিছু করতে হবে যা অন্যদের চেয়ে আপনাকে একেবারেই আলাদা করবে। মনে রাখবেন, বেশিরভাগ ব্যবসা এই কারণে নষ্ট হয়ে যায় না যে তাদের প্রোডাক্ট খুব খারাপ ছিল, বরং তারা ব্যর্থ হয় কারণ তারা খুব ধীরগতিতে কাজ করে। 

তাই দ্রুত কাজ শুরু করুন এবং আরো দ্রুত সামনে এগিয়ে যান। 

আপনার প্রোডাক্ট যদি সবসময় সবার জন্য সহজলভ্য থাকে, তবে তার প্রতি মানুষের আকর্ষণ কমে যায়। তাই সেটার মধ্যে এক ধরনের এক্সক্লুসিভ ব্যাপার নিয়ে আসুন। আর সবচেয়ে বড় কথা, আপনার কাস্টমারদের কথা শুনুন। কারণ আপনার স্ট্র্যাটেজি টিমের চেয়ে আপনার কাস্টমাররাই সবচেয়ে ভালো জানে আপনার প্রোডাক্ট কেমন হওয়া উচিত। জীবনে সফল হতে গেলে বিশাল কোনো বাজেট বা মিলিয়ন ফলোয়ারের দরকার নেই। আপনার শুধু দরকার কাস্টমারের কাছাকাছি থাকা এবং সবার চেয়ে দ্রুত কাজ করা।

বিশ্বের দ্বিতীয় সামরিক পাওয়ারহাউজ এখন সৌদি আরব। বেকায়দায় যুক্তরাষ্ট্র।

 এমবিএস Diplomacy:

ব্যক্তিগত সার্কেলে আরও ৫-৭ বছর আগে থেকেই আলোচনা করেছিলাম অতিসত্বর এমবিএস তথা সৌদি আরব বিশ্ব অর্থনীতি, কূটনীতি ও সামরিক পাওয়ার হাউজ হয়ে উঠবে।

*** মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট ঋণ ৩৬ ট্রিলিয়ন ডলার। মোট জিডিপির ১২৩% ঋণে জর্জরিত মার্কিন জনগণ। আর অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল ঋণের বোঝা হালকা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেছেন ট্রাম্প।

দরিয়া-ই-নূর এক রহস্যজনক হীরা

 এই অন্তর্বর্তী সরকার যে কত রহস্যজনক বিষয়ে হাত দিচ্ছে, ভাবলে মাঝে মাঝে অবাক হতে হয়।


আজ থেকে কয়েকশো বছর আগে অন্ধ্র প্রদেশের একটি গুহা থেকে বেরিয়ে এলো ছোট্ট এক খণ্ড পাথর। কিন্তু সেই খণ্ড থেকে এমন আলো ছড়াচ্ছিল, মনে হচ্ছিল পরাবাস্তব কিছু একটা চোখের সামনে। এটির নাম দেয়া হলো, দরিয়া-ই-নূর। অর্থ আলোর সাগর।

কানাত ভূগর্ভস্থ টানেলের একটি অসাধারণ ব্যবস্থা

 ৩,০০০ বছরেরও বেশি সময় আগে, মরুভূমির কেন্দ্রস্থলে, পারস্যরা এক অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছিল


পৃথিবীর সবচেয়ে কঠোর, শুষ্কতম স্থানে, প্রাচীন পারস্য প্রকৌশলীরা জীবন-মৃত্যুর সমস্যার একটি উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে এসেছিলেন: মরুভূমিতে কীভাবে জল আনা যায়।

আওয়ামীলীগের নিবন্ধন বাতিল করলো সরকার।

 এক নির্বাহি আদেশে সরকার সাইবার স্পেসসহ আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। 

এটার মানে হলো, দল হিসাবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয় নাই। কিন্তু তার যে বিচার চলছে, সেই বিচার শেষ হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারবেনা। একেবারে রাফলি যে কয়েকটা চিন্তা মাথায় আসলো, সেটা শেয়ার করি।

ইউক্রেন রাশিয়ার মধ্যকার যুদ্ধে আমেরিকা কেনো?

 গতকাল ইউক্রেনের জন্য খুব খারাপ একটা দিন ছিল।


ইউক্রেন আমেরিকার সাথে এমন একটা চুক্তি করেছে যে, এটাকে দেশ বিক্রি করে দেয়া বললে মোটেও ভুল হবে না। একটু বিস্তারিত বলার চেষ্টা করি।

কুনান-পোশপোরা গণধর্ষণ কাণ্ড (১৯৯১)

 কুনান-পোশপোরা গণধর্ষণ কাণ্ড (১৯৯১)


তারিখ: ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯১

স্থান: কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার দুটি গ্রাম—কুনান ও পোশপোরা

ঘটনা: ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪র্থ রাজপুতানা রাইফেলস বাহিনী ওই রাতে একটি ঘর তল্লাশি অভিযান (search operation) চালায়। এই অভিযানের সময় তারা গ্রামবাসীদের অভিযোগ অনুযায়ী, অন্তত ২৩ জন থেকে শুরু করে ৪০ জন বা তারও বেশি নারীকে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে কিশোরী মেয়ে, গর্ভবতী নারী এবং বৃদ্ধাও ছিলেন।

দিন দিন মানুষের রাত জেগে মোবাইল ফোন স্ক্রল করার প্রবণতা বাড়ছে

 পিছিয়ে যাচ্ছে ঘুম: রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশনের যতকথা

আপনি কি রাত জেগে ইউটিউব স্ক্রল করেন? অথবা ঠিক শোবার আগেই 'আর একটা এপিসোড' বলে সিরিজ দেখা শুরু করেন? ঘুম আসলেও বারবার ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে দেন—"আর মাত্র দশ মিনিট!" কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই দশ মিনিটই রাতের ঘুম চুরি করে নেয়। যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে আপনি হয়তো ‘রিভেঞ্জ বেডটাইম প্রোক্রাস্টিনেশন’-এর শিকার!। 

মাত্র ২০ ডলারের ঘড়ি কীভাবে রোলেক্স'কেও ছড়িয়ে গেলো?

আমরা সাধারণত ভাবি, কোনো একটা প্রোডাক্ট বা ব্যবসাকে সফল করতে হলে তাতে দুনিয়ার সব অত্যাধুনিক ফিচার যোগ করতে হবে। ডিজাইন হতে হবে চোখধাঁধানো, আর...