আজকের ভারত কে বুঝতে হলে আপনাকে তাদের কালচারাল ডাইন্যামিক্স গুলা বুঝতে হবে। এনআথ্রোপলজি বুঝতে হবে। ইতিহাস বুঝতে হবে। ধর্ম বুঝতে হবে। মানুষ বুঝতে হবে।
আজ থেকে ৩০০ বছর আগেও যদি ফেরত যান...ভারত নানে আলাদা কোন দেশ ছিলো না। এমন কি ১৯৪৭ এর আগেও ভারতে অনেক গুলা ছোট ছোট প্রিন্সলি স্টেট ছিলো।
তো...স্বাভাবিক যুক্তিবিদ্যা যদি ধরেন...ভারত-পাকিস্তান নামক দুইটা আলাদা দেশ হবার কোন কারণ নাই। এখানে অসং্খ্য ছোট ছোট দেশ হতে পারতো।
বাংলা ভাষাভাষি দুইটা, সেভেন সিস্টার্সে, সাউথ ইন্ডিয়ায়, শিখদের...এরকম সুযোগ ছিলো। কিন্ত ব্রিটিশরা সেটা দিলো না। হাজার বছরের বিচিত্র ইতিহাদ পায়ে মাড়িয়ে তারা জন্মদিলো কৃত্রিম দুই রাষ্ট্র: ভারত এবং পাকিস্তান।
মানে ভারত একক ভাবে কোন দেশ না। অসংখ্য ছোট ছোট দেশ মিলাইয়া বড় একটা দেশ।
____
ভারতের ফাউন্ডিং ফাদারস রা বিষয়টা বুঝতো।তাই তারা সিদ্ধান্ত নিলো এই বিচিত্র ছোট ছোট জনপদকে বাঁধতে হলে দুইটা জিনিস নিশ্চিত করতে হবে: ১। গণতন্ত্র ২। সেক্যুলারিজম।
তারা চেষ্টা করলো তাদের প্রতিষ্ঠান গুলাকে সেক্যুলার চেহারা দেবার। ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস, জুডিসিয়াল সার্ভিস, পুলিশ সার্ভিস , সেনা সার্ভিস এগুলার চরিত্র তারা সেক্যুলার রাখার চেষ্টা করলো।
আর আপনি যদি ভারতীয় সংবিধানে যান...এমন অনেক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে...যাতে রিপাব্লিক ভেংগে না পরে।
___
ভারতের জনপদ/জনমত কতোটা বিচিত্র।
আপনি যদি দক্ষিণ ভারতের দিকে তাকান...তাইলে এক্টা সম্পূর্ণ ভিন্ন সভ্যতা দেখতে পাবেন। সাউথ ইন্ডিয়ানরা দ্রাবিরিয়ান সভ্যতার প্রতিনিধিত্ব করে। এবং দে আর প্রাউড অফ ইট। তাদের ভাষা এবং তাদের সংস্কৃতি নিয়ে তারা কতোটা গর্বিত...এইটা জাস্ট তাদের মুভি দেখলেই বুঝা যায়।
দ্রাবিড়িয়ান সভ্যতা এর সাথে ইন্দো-আরিয়ান সভ্যতার সংঘাতটা কোথায় এটা নিয়ে অনেক বড় পোস্ট লিখা লাগবে। সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং হচ্ছে এই সংঘাতে আমাদের অবস্থান।
যাই হোক।
আপ্নি সেভেন সিস্টার্সে যান।
এখানের অবস্থা আরো বিচিত্র।
এখানের প্রদেশ গুলা দুইটা দুনিয়ার প্রতিনিধিত্ব করে।
এক্টা গ্রুপ হচ্ছে তিব্বতীয়/হিমালয়ান গ্রুপ। আরেকটা হচ্ছে সাউথ ইস্ট এশিয়ান গ্রুপ।
এটা নিয়েও অদূর ভবিষ্যতে বিস্তারিত পোস্ট দেওয়া লাগবে।
এর বাইরে শিখরা আছে। আরো বিচিত্র সব জাতিগোষ্ঠী আছে।
কিন্ত...এদের সবাইকে ডমিনেট করে...হিন্দি বেল্ট। এরা ইন্দো-আরিয়ান সভ্যতার সরাসরি প্রতিনিধিত্ব করে।
___
এখন আপ্নি যদি দেখেন...ভারতের ইকোনোমিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে সাউথ ইন্ডিয়ার। শিক্ষায় ওরা আগাইয়া। শিল্পে অবদান আছে। তারা জনসং্খ্যা কমাইয়া আনছে।
অন্যদিকে হিন্দি বেল্টের লোকজন খালি খায় আর বাচ্চা পয়দা করে (মেক্সিমাম)। যার ফলে হিন্দি বেল্টের জনসং্খ্যা লাফাইয়া বাড়ছে।
মোদি চেষ্টা করছিলো...জনসং্খ্যার অনুপাতে প্রদেশ গুলার মাঝে আসন ভাগ করতে।
এইটা করলে..মোদির আজীবন ক্ষমতায় থাকার রাস্তা ক্লিয়ার হয়ে যাইতো। কারণ হিন্দি বেল্ট জনসং্খ্যার হিসেবে অনেক বেশি আসন পাইতো
এইখানে বাদ সাধছে সাউথ ইন্ডিয়ানরা। তাদের বক্তব্য...আমরা কষ্ট করে জনসংখ্যা কমাইলাম..সেইটা কি আমাদের ডিস্ক্রেডিট?
মোদি এবার পিছাইয়া গেছে। কিন্ত সামনে আর পিছাবে না।
একই খেলা আরো অনেক জায়গায় চলতেছে।
মোদি সিস্টেমেটিক্যালি প্রতিষ্ঠান গুলা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। নষ্ট করতেছে।
এক সময় হিন্দি বেল্ট ছিলো কংগ্রেসের ঠিকানা। সেখানে কংগ্রেস এখন নিজেই উদ্বাস্ত।
আর মোদি হিন্দি বেল্টের বাইরে নিজের প্রভাব বিস্তার করতে চাচ্ছে ডেস্পারেটলি। এজন্য যা করা লাগতেছে করতেছে
____
তাইলে...আমরা কেন চাচ্ছি...যে মোদি ক্ষমতায় টিকে থাকুক?
কারণ..মোদি আসলে সাধারণ হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব করে না। সে প্রতিনিধিত্ব করে...উগ্র হিন্দুত্ববাদের। মোদি এখানে ইন্সট্রুমেন্ট মাত্র। তাকে সামনে রেখে ব্রাক্ষণ শ্রেষ্ঠত্বের আড়ালে আর্য শ্রেষ্ঠত্বের।
মানে এখানে হিন্দি বেল্টের নিম্নবর্ণের হিন্দুরাও ইউজড হচ্ছে।
দক্ষিণ ভারতের হিন্দু ধর্মের চর্চা বা নিম্ন বর্ণের হিন্দুদের ধর্ম চর্চা আর হিন্দি বেল্টের হিন্দুত্বের ভার্সন সেম না।
মোদি যতো বেশি দিন ক্ষমতায় থাকবে...এই বিষয় গুলা আরো স্পষ্ট হবে।
একই সাথে দক্ষিণ ভারত, সেভেন সিস্টার্স সহ ভারতের অন্যান্য অংশ নিজেদের হিস্যা বুঝে নিতে সোচ্চার হবে।
যার ফলে...দাপট কমবে হিন্দি বেল্টের।
_____
মনে রাখবেন...আমাদের মূল শত্রু সাধারণ ভারতের জনগ্ণ না। আমাদের দুশমন হিন্দি বেল্টের আগ্রাসী সাম্প্রদায়িক নেতারা।
দক্ষিণ এশিয়ার শান্তির জন্য তাই ভারত ভাগ হওয়া আবশ্যিক না। ভারতে প্রকৃত ফেডারেল ব্যবস্থা কায়েম হওয়া জরুরি।
এইটা নিয়ে আলাপ উঠছে। এবং মোদি আরো দুই/তিন টার্ন ক্ষমতায় থাকলে এটা হবেই।
কারণ ভারতকে এক সূতায় বাঁধার সূত্র...অসাম্প্রদিক ইন্সটিটিউশন এবং গণতন্ত্র...মোদি দুইটাই ধ্বংস করছে।
© Unknown
No comments:
Post a Comment